স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষক আলাউদ্দিনের সম্পদের পাহাড়, ফ্লাট বাসায় নারী সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: হিসাবরক্ষক পদে করেন সরকারী চাকরি । নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে যে আয়, তার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও কুমিল্লায় দৃশ্যমান সম্পদের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক মোঃ আলাউদ্দিনকে ঘিরে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে তাঁর একাধিক সম্পদ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা। এর মধ্যে আয়েশা মোশারফ সুপার মার্কেট ও আর. এস. সুপার কমপ্লেক্সে ফ্ল্যাট এবং তিনটি দোকানের মালিকানার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কসমেটিকস ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু রাজধানী নয়, কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতেও আলাউদ্দিনের বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে আলাউদ্দিনের বৈধ আয় এবং তাঁর নামে বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই।
ফ্ল্যাট, দোকান, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও গ্রামের বাড়ির সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে তাঁর চাকরিজীবনের আয়, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের সঙ্গে তুলনা করলেই এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
আলাউদ্দিনকে ঘিরে সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি নারীসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের কথাও সামনে এসেছে। তিনি তার ফ্লাটে বিভিন্ন নারী নিয়ে আসতেন, এবং স্পাতে তিনি বিভিন্ন সময় সেবা নিতে যেতেন।
আলাউদ্দিনের চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেনের মাধ্যমে তিনি চাকরি পাওয়ার দাবি করেন এবং সে সময় নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করে বলেন, একটা সময় তিনি ইন্ডিয়ান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের ফলাফল, যোগদানের নথি এবং তৎকালীন সরকারি রেকর্ড। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি পেয়েছিলেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেবল মৌখিক দাবির ভিত্তিতে পৌঁছানো যায় না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মোঃ আলাউদ্দিনের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা যা পারেন লিখেন, আমার কোনো আপত্তি নাই।
দ্বিতীয় পর্ব থাকছে তার সম্পত্তির ফিরিস্তির বিস্তারিত, এবং একাধিক নারীর দেওয়া বক্তব্যই উঠে আসবে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।