ডাক্তারদের দায়িত্ব অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, অভিযোগ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিরুদ্ধে, ২লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় রফা দফা
ডাক্তারদের দায়িত্ব অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, ২২৫ হাজার টাকায় রফা দফা অভিযোগ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিরুদ্ধে
নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর নয়াপল্টনে ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতালের ডাক্তারদের গাফিলতির কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ অনুসারে, গত ২৪ শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে নয়াপল্টন ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজ হাসপাতালে ভর্তি হন আজিজুল ইসলাম নামে ২৭ বছর বয়সী যুবক। সাত বছর বয়সী কন্যা সন্তানের জনক আজিজুল পরিবারসহ থাকতেন ফকিরাপুলে। কয়েকদিন আগে তিনি বিদেশে যাবেন বলে ভিসা পেয়েছেন এবং সম্পন্ন করেছেন মেডিকেল চেকআপ । বুধবার ২৩ শে সেপ্টেম্বর জরে আক্রান্ত হলে বৃহস্পতিবার নয়া পল্টন ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় পাতলা পায়খানা ও বুকে ব্যথা, বিষয়টি ডাক্তারদের কাছে বলেন রোগীর স্বজনরা। এদিকে কর্তব্যরত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফয়জুল্লাহ শুধুমাত্র রাতে একবার এসে রোগী দেখেন। এছাড়া অন্য সময় থাকেন নার্স। শনিবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটে রোগীকে একটি ইঞ্জেকশন দেন নার্স । ইঞ্জেকশন দেয়ার পরপরই রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ হাস, পাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রোগীর অবস্থার খারাপের কথা জানালে তারা আসতেছি, দেখতেছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। রোগীকে জরুরিভাবে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে নেই আইসিইউ ব্যবস্থা, রোগীকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়নি স্বজনদের। স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তার, নার্সদের অবহেলাযর কারণেই রোগী মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর পরপরই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত ডাক্তার এবং নার্স পালিয়ে যায় এবং বকেয়া খরচ পরিষদের আগেই তড়িঘড়ি করে লাশ নিচে নামিয়ে দেয়।

তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে রোগীর আত্মীয়-স্বজন হাজির হয়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ 999 কল দিয়ে পল্টন থানা পুলিশের সহযোগিতা নেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রাত ১২টা নাগাদ থানা পুলিশের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের সালিশ বৈঠকে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা ভিকটিমদের মানবিক সহায়তা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে উৎসুক জনতা দাবি করেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাক্তারদের এমন অবহেলা কিছুতেই মেনে নেওয়ার মতো না। প্রায় সময় এ ধরনের ঘটনা আমরা মিডিয়াতে দেখে থাকি। চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন আর সেবামূলক কাজ হিসেবে নাই, চিকিৎসা সেবা এখন একটা কসাইখানায় রূপান্তর হয়েছে। অনেকেই এখন ইসলাম শব্দটা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম দেন। ইসলামের আড়ালে তারা অনেক মানবতা বিরোধী কর্ম করেন। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রোগীর স্বজনসহ উৎসুক জনতা।
