বাংলা সংবাদ মাধ্যম

বৈশাখী টেলিভিশনে ১১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও ভুয়া মামলায় হয়রানির শিকার ড. রফিকুল আমিন

কাইয়ুম হোসেনঃ বৈশাখী টেলিভিশনে ১১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও ভুয়া মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডেসটিনি গ্রুপ ও বৈশাখী টিভির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল আমিন। শনিবার মহাখালীস্থ বৈশাখী টিভি ভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩ দফা দাবি জানান।

‎

‎ড. আমিন অভিযোগ করেন, ডেসটিনি গ্রুপকে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাই করা হয়েছে।  একটি প্রভাবশালী চক্র আদালতকে ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেছে। ডেসটিনির সকল সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সরকারের কাছে জব্দ থাকলেও ৪৩ লাখ বিনিয়োগকারী ১৭ বছর ধরে অপেক্ষা করছে।

‎

‎ডেসটিনির সকল সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আজ সরকারের কাছে জব্দ আছে। আমাদের ৪৩ লাখ বিনিয়োগকারী ১৭ বছর ধরে অপেক্ষা করছে। সরকার আন্তরিক হলে আগামী মাস থেকেই গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব।

‎

‎বৈশাখী টিভি কেনার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমে ১৯ কোটি টাকায় ৫০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ৪ কোটি ও ৩ কোটি টাকায় দুটি পক্ষের শেয়ার কেনেন। প্রাইম ব্যাংকে ৩১ কোটি টাকা দায় পরিশোধ করে ২০০৯ সালের ২৯ জুন শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন করেন। সাঈদুল্লাহকে অতিরিক্ত ১২ কোটি সহ মোট ৬১ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। পরে চ্যানেলটি এইচডি করতে ৪০ কোটি টাকার ক্যামেরা, ১৭ কোটি বেতন সহ মোট ১১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।

‎

‎অভিযোগে বলা হয়েছে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ আমি বন্দুক ঠেকিয়ে শেয়ার লিখে নিয়েছি, অথচ আমি টিভি কিনেছি ২০০৯ সালের ৩০ জুন। বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন মামলাটি ভুয়া।

‎

‎স্বচ্ছতার প্রমাণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৬ সালেই টাকা মেরে খাওয়া বন্ধে ইআরপি সিস্টেম বসিয়েছিলেন। পুলিশ কনস্টেবলের “ছয়শ টাকায় ফ্ল্যাট, এটা কি স্বপ্ন?” – এই প্রশ্ন থেকেই স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের আইডিয়া আসে।

‎

‎বিনিয়োগকারীর হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ১৭ লাখ ছোট বিনিয়োগকারীর প্রায় ১৭শ কোটি টাকা এবং সমবায় সমিতির সাড়ে ৮ লাখ সদস্যের ১৩৮১ কোটি টাকায় ২৬টি কোম্পানি করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের এক টাকাও ব্যাংক লোন নেই।

‎

‎প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩ দফা দাবি: হাইকোর্টে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, জব্দ ৩০০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, নিরপেক্ষ ম্যানেজমেন্টের হাতে সম্পত্তি ফেরত। অ্যাকাউন্ট খুলে দিলে আগামী মাস থেকেই টাকা ফেরত দেব, ২ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নেব।

‎

‎এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, শুধু আসামি হওয়ার ভয়ে তার বন্ধুরাও পক্ষে কথা বলতে সাহস পায় না। তাকে নিমন্ত্রণ দেওয়ায় তার এক বন্ধু ২ বছর জেল খেটেছে বলেও জানান তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.