বাংলা সংবাদ মাধ্যম

হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধের দাবির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতির বিবৃতি

নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ইমাম ওলামা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন হেযবুত তওহীদের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আরিফ উদ্দিন। তিনি এ ধরনের দাবি ও প্রচেষ্টাকে অগণতান্ত্রিক, অযৌক্তিক এবং নাগরিকের আইনসঙ্গত মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় দারুল উলুম মাদ্রাসায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ইমাম ওলামা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ইমাম ওলামা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুফতি আবু তাহের আল মাদানী। সেখানে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়টি উত্থাপিত হয় বলে জানা যায়।

এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে হেযবুত তওহীদের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আরিফ উদ্দিন বলেন, “কোনো সংগঠনের সঙ্গে ধর্মীয়, আকিদাগত বা দৃষ্টিভঙ্গিগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত সমাধান হতে পারে না। কোনো সংগঠন আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের; কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর দাবির ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।”

তিনি বলেন, “হেযবুত তওহীদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রচলিত আইন মেনে তার আদর্শিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করে আসছে। যদি সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনভঙ্গের অভিযোগ থাকে, তাহলে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হোক। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট আইনগত প্রমাণ বা বিচারিক সিদ্ধান্ত ছাড়া একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

আরিফ উদ্দিন আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের আইনসঙ্গত মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিয়েছে। ধর্মীয় বা আদর্শিক মতপার্থক্য থাকলে তার মোকাবিলা হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ মতবিনিময়ের মাধ্যমে—নিষেধাজ্ঞা, অপপ্রচার বা সামাজিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো ধর্মীয় আলেম, মাদ্রাসা বা ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে বিরোধে যেতে চাই না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মতের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তবে কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার মতো গুরুতর দাবি যদি উত্থাপিত হয়, তাহলে তার পেছনে সুস্পষ্ট, যাচাইযোগ্য ও আইনসম্মত কারণ থাকা আবশ্যক।”

হেযবুত তওহীদের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পক্ষের চাপ, আবেগ বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়; বরং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, গুজব কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে যাতে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিক ও আইনসঙ্গত সংগঠনের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া উচিত। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, আমরা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। কিন্তু শুধুমাত্র মতাদর্শগত বা ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে নিষিদ্ধের দাবি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”

আরিফ উদ্দিন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশের সামগ্রিক শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করা জরুরি। মতপার্থক্যকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে যুক্তি, আইন ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ অনুসরণ করাই সবার দায়িত্ব।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.