বাংলা সংবাদ মাধ্যম

ক্লাব বয় থেকে কোটি টাকার মালিক! বিমানবন্দরে ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্যে কারা?

বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদন: ধারাবাহিক পর্বের প্রথম পর্ব

ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে মাসিক মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতনের একটি চাকরি। পদবী “ক্লাব বয়”। কিন্তু এই সামান্য আয়ের চাকরি করেও কেউ যদি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে যান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—টাকার উৎস কোথায়?

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কর্মরত কয়েকজন ক্লাব বয় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তারা বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছেন।

একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ক্লাব বয়দের কাজ শুধু চা-নাস্তা পরিবেশন বা দাপ্তরিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় হওয়া ঘুষের টাকা আদান-প্রদান, গোপন বার্তা পৌঁছে দেওয়া, ফাইল ও কাগজপত্র স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল দায়িত্বও তারা পালন করেন।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নাহিদ নামে এক ক্লাব বয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এই ব্যক্তি বর্তমানে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তার সহযোগী হিসেবে সবুজ নামের একজনের নামও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

সূত্রগুলো বলছে, নাহিদ, নজরুল, নাসির, ইউসুফ ও বিশালকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রিত হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সামান্য বেতনের চাকরি করলেও নাহিদের নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের পাশাপাশি গাজীপুরে রয়েছে তার একটি আলিশান বাড়ি। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন ক্লাব বয়ের পক্ষে এসব সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের আকস্মিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন আয়ের উৎস ও সম্পদের পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, নাহিদের জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণ তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে তার সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, কর নথি এবং সম্পত্তির মালিকানা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে যদি সত্যিই কোনো ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে, তাহলে তা শুধু রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

সংশ্লিষ্ট মহল নাহিদ ও তার সহযোগীদের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, ফ্ল্যাট-প্লটের মালিকানা এবং বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে তাদের কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.