নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ হ্যাঁ পাঠক-প্রায় সময় আমরা খবরে দেখি- লাইসেন্সহীন ব্যক্তি কাজী সেজে ভুয়া নিকাহ রেজিস্টার অফিস, ভুয়া কাবিন নামা তৈরি, বাল্যবিয়ে দেওয়া এবং তথ্য গোপন করে অর্থের বিনিময় বিয়ে পড়ানো, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিয়ে । আইনের চোখ ফাকি দিয়ে এবং ধর্ম বিরোধী কাজ করা এবং অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করা সহ নানা অপরাধ।
এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে গত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর লালবাগে। তৎকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থাকায় তিনি মিডিয়ার সামনে আসতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানে জনগণের বাক স্বাধীনতা থাকায় তিনি মিডিয়ার সামনে আসছে সক্ষম হয়েছেন।
ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেনের অভিযোগঃ লালবাগের শায়েস্তা খান রোডে অবস্থিত নিকাহ রেজিস্টার কাজী মোহাম্মাদ আলী মিয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া তার স্ত্রীকে অবৈধভাবে হিল্লা ভিয়ে দেন চরমোনাই মুরিদ কবির আহমেদের সাথে। পারিবারিক কলহের কারণে স্থানীয় হুজুরদের ফতুয়ার প্ররোচনায় (স্থানীয় মোল্লাদের ফতুয়ার মাইরপ্যাচে পরে) ২৬ শে এপ্রিল ২০২৫ সালে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে সংসার করা অবস্থায় মরিয়ম বিবিকে পুনরায় বিয়ে করেন আওলাদ হোসেন। এই বিয়ের সাক্ষী তারই খালাতো ভাই কবির আহমেদ। এই বিয়ে পরান শায়েস্তা খান রোডের নিকাহ রেজিস্টার পরিচয়দানকারী মোহাম্মদ আলী মিয়া। ঠিক একদিন পরে কবির আহমেদ, আওলাদ হোসেনের স্ত্রীকে ফ্লাট, স্বর্ণালংকার এবং বিয়ে করে সুখে রাখার প্রলোভনে আওলাদ হোসেনের কাছ থেকে বিবি মরিয়মকে ফুসলিয়ে পালিয়ে বিয়ে করতে যান শায়েস্তা খান রোডের নিকাহ রেজিস্টার মোহাম্মদ আলী মিয়ার কাছে। কাজী মোহাম্মদ আলী মিয়া এবং কবির আহমেদ
একই পীরের মুরিদ হাওয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনৈতিক কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেন। অর্থাৎ ২৬ তারিখে যেই কাজী আওলাদ হোসেনের সাথে বিয়ে পড়ান ঠিক একদিন পরে, তিন মাস ১৩ দিন ইদ্দত পালন না করে পরের দিনই আবার কবির আহমেদের সাথে বিয়ে দেন। নিকাহ রেজিস্টার কাজী মোহাম্মদ আলীর দাবি তারা একটি লিখিত ফতুয়ার ভিত্তিতে বিয়ে পরান কিন্তু সাংবাদিকদের কাছে ফতুয়ার কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। তাছাড়া বাংলাদেশের আইনে ফতুয়ার ভিত্তিতে তালাকের কোন ভিত্তি নেই।
আরো মজার বিষয় হলো, হিল্লা বিয়ের সময় চরমোনাই মুরিদ কবির আহমেদের প্রথম স্ত্রীকে মৃত দেখান কজী।কারণ দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে প্রথম স্ত্রীর অনুমোদন লাগে। আর বিয়েটি হচ্ছে প্রথম স্ত্রীকে না জানি। তাই এখানে প্রথম স্ত্রীকে মৃত্যু দেখানো হয়। কিন্তু সরে জমিনে গিয়ে কবির আহমদের প্রথম স্ত্রীকে জীবিত পাওয়া যায় এবং এই বিয়ের বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না, বিয়ের পরে তিনি জানতে পারেন বলে সাংবাদিকদের বক্তব্য প্রদান করেন।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হল কবির আহমেদের বিয়ে হয় ২৭ এপ্রিল ২০২৫ ঠিক ১৪ দিন পরে সেই বিয়েই আবার একই কাজীর মাধ্যমে তালাক দেওয়ান হয়। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত কাজী একেই মহিলাকে দুজনের সাথে বিয়ে পড়ান এবং আবার দুজনকেই তালাক দেয়। তাদের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কাজী অফিস কিন্তু সাংবাদিকরা কাজী অফিসে গেলে তাদের বৈধ কোন লাইসেন্স দেখাতে পারেন নি এবং তারা তাদের দোষ স্বীকার করেন ।
আওলাদ হোসেনের দাবি কিভাবে মরিয়ম বিবি আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনমাস ১৩ দিন অপেক্ষা না করে, অন্য লোকের সাথে আমার স্ত্রীকে কিভাবে বিয়ে দেন এবং ১৪ দিন সংসার করার পরে সেই স্ত্রীকে আবার কিভাবে তালাক দেওয়া হয়। এ ধরনের নীতি নৈতিকতাহীন এবং বাংলাদেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ ধরনের অনৈতিক কাজকর্ম করার দায়ে নিকাহ রেজিস্টার কাজী মোহাম্মদ আলী মিয়ার শাস্তির দাবি জানান।
প্রিয় পাঠক/দর্শক, এ ধরনের খবর পড়ে আমরা তাৎক্ষনিক আশ্চার্য হয় কিছুক্ষণ পর আমরা স্বাভাবিক হয়ে যাই। কারণ ঘটনাটি আমার সাথে ঘটেনি । কিন্তু এভাবে কি একটি সমাজ, দেশ চলতে পারে? নিশ্চয়ই না। যদি আমরা পরিবর্তন চাই, একটি সুন্দর সমাজ চাই, তাহলে আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে এবং সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হতে হবে। যেভাবে আমরা সফল হয়েছি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে।