তাকওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্ব অবহেলায় রোগী মারার অভিযোগ উঠেছে। নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ চিকিৎসা ও দায়িত্ব অবহেলায় রোগী মারার অভিযোগ উঠেছে তাকওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল ও অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির বিরুদ্ধে।
রাজধানীর শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার ধারি নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির । গলার পিছনদিকে ছোট একটি টিউমার নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল শনিবার বিকেলে বিক্রমপুর থেকে রাজধানীর শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন আঃ রাজ্জাক আকন (৭৪) ও তার স্বজনরা। শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ আবু ইউসুফ ফকিরের কাছে যান তারা। পপুলারে বিভিন্ন পরীক্ষার পর ডাক্তার আবু ইউসুফ ফকির ও রোগীদের সাথে তার কথা হয় রোগীকে অপারেশন করতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঔষধ খরচ ব্যতিত শুধু অপারেশন বাবদ ডাক্তারকে দিতে হবে তিন লক্ষ টাকা। অপরেশনটি করতে হবে মগবাজার তাকওয়া স্পেশালাইস্ট হাসপাতালে। কথা অনুযায়ী তারা চলে যান মগবাজারে।

রোগী (১০০০০০) এক লক্ষ টাকা নগদ পরিশোধ করে অপারেশন শুরু করতে বলে। কিন্তু ডাক্তার মোঃ আবু ইউসুফ ফকির পুরো তিন লক্ষ টাকাই অগ্রিম দাবি করেন। ভিকটিম বাকি টাকা অপারেশনের পরে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে রাজি হয়ে জান আবু ইউসুফ। এরপর রাত আরো একটি রিপোর্ট করাতে বলেন রোগীর স্বজদের। রিপোর্টটি আবু ইউসুফ কোন এক জায়গা থেকে করাবেন, এতে খরচ বাবদ ৬০০০ টাকা দাবি করেন ডাঃ আবু ইউসুফ। স্বজনরা ৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হন ডাঃ আবু ইউসুফ। পরবর্তীতে রোগির স্বজনরা সেই রিপোর্ট আদদ্বিন হাসপাতাল থেকে করান মাত্র ১২শ টাকায়। এটাই কাল হলো রোগী ও তার স্বজনদের ২৭ এপ্রিল সোমবার রাতে মগবাজার তাকওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতালে রাত আনুমানিক ১১ টায় অপারেশন সম্পন্ন করেন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির। অপারেশনের পরেই তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। এসময় হাসপাতালে দুজন নার্স ছাড়া অন্য কোন ডাক্তার ছিল না। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর রোগী ছটফট করতে থাকে। এ সময় আবু ইউসুফকে বারবার রোগির স্বজনরা ফোন দিলেও দেখতেছি দেখতেছি বলে সময় ক্ষেপণ করেন আবু ইউসুফকে । এ যেন রোগী মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে আবু ইউসুফ।
মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে রোগির স্বজনরা রোগির কাছে যেতে চাইলে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স এবং ওয়ার্ড বয় রোগীর কাছে যেতে বাধা দেয়। পরবর্তীতে নার্স কে বা কার কথায় রোগীকে একটি ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। ইনজেকশন দেয়ার ৫ মিনিট পরেই রোগী মৃত্যু হয়। সকাল ৯ ঘটিকের দিকে মিডিয়া কর্মীদের কাছে সংবাদ আসে তাকওয়া হাসপাতালে ডাক্তারদের অবহেলায় রোগী মৃত্যু হয়েছে। সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পায়নী। একজন ম্যানেজার এবং দুজন নার্স পাওয়া গেলেও তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি । তারা সকালে ডিউটিতে এসেছে বিধায় আগে যারা ডিউটিতে ছিল তারা বিষয়টি জানেন বলে বক্তব্য প্রদান করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আবু ইউসুফ ফকির এর তথ্য জানার জন্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এটি তাদের কোন দায় নয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এদিকে আবু ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ডাক্তার অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া রয়েছে। তিনি বিভিন্ন হাসপাতালের কমিশনের বিনিময়ে রোগী পাঠানো, টেস্ট বাণিজ্য সিন্ডিকেট ইত্যাদি।
এমন দায়িত্ব হীন ডাক্তারদের কারণে যেন আর কোন প্রাণ অকালে ঝরে না যায় তার জন্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির এবং তাকওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানান রোগীর স্বজনরা ।
তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে কামিয়েছেন কারিকারি টাকা, যে লোভ তিনি এখনো ছাড়তে পারেনি। হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ সায়েমা আক্তার শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন একুশে পদক । তিনিও আওয়ামী লীগের একজন দোসর। এই আওয়ামী লীগের দোসররা মিলেই গড়ে তুলেছেন মগবাজারে তাকাওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল হসপিটাল নামে এক মহা শেষপাতাল। যারা টাকা ছাড়া অন্য কিছু চিনেন না, বোঝেন না। টাকা না পেলে তারা মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে এক সেকেন্ডও ভাবেন না।

গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে কামিয়েছেন কারিকারি টাকা। এ সমস্ত স্বৈরাচারের দোসরদের নির্মূল করতে না পারলে বর্তমান সরকার প্রত্যেকটা কাজ ব্যর্থ হবে। তাই সরকারের কাছে এ সমস্ত লীগের দোসরদের গ্রেফতার করে যথাযোগ্য শাস্তির আওতায় আনা শুধু দরকারই নয় অতি প্রয়োজন।
