বাংলা সংবাদ মাধ্যম

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকিরের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় ও দায়িত্ব অবহেলায় রোগী মারার অভিযোগ

তাকওয়া স্পেশালাইজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্ব অবহেলায় রোগী মারার অভিযোগ উঠেছে। নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভুয়া চিকিৎসকের সংখ্যা। প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে প্রকৃত চিকিৎসকদের। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা হয়ে পড়ছে প্রশ্নবিদ্ধ, অন্যদিকে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অনেক রোগী। চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতই তাদের মূল লক্ষ।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির ও তাকওয়া স্পেশালাইজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্ব অবহেলায় রোগী মা/রা/র অভিযোগ উঠেছে । ২৭ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার রাতে মগবাজার তাকওয়া স্পেশালাইজ হাসপাতালে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকিরের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্ব অবহেলায় মারা যান আঃ রাজ্জাক আকন (৭৪) ঘটনার বিস্তারিত।

রাজধানীর শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার ধারি নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অধ্যাপক মোঃ আবু ইউসুফ ফকির । গলার পিছনদিকে ছোট একটি টিউমার নিয়ে গত ২৫শে এপ্রিল শনিবার বিকেলে বিক্রমপুর থেকে রাজধানীর শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন আঃ রাজ্জাক আকন (৭৪) ও তার স্বজনরা। শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু ইউসুফ ফকিরের কাছে যান যার ভিজিট ১৫০০ টাকা। পপুলারে বিভিন্ন পরীক্ষার পর ডাক্তার আবু ইউসুফ ফকির ও রোগীদের সাথে তার কথা হয় রোগীকে অপারেশন করতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঔষধ খরচ ব্যতিত শুধু অপারেশন বাবদ ডাক্তারকে দিতে হবে তিন লক্ষ টাকা। অপরেশনটি করতে হবে মগবাজার তাকওয়া স্পেশালাইস্ট হাসপাতালে। কথা অনুযায়ী তারা চলে যান মগবাজারে।

রোগী (১,০০,০০০) এক লক্ষ টাকা নগদ পরিশোধ করে অপারেশন শুরু করতে বলে। কিন্তু ডাক্তার মোঃ আবু ইউসুফ ফকির পুরো তিন লক্ষ টাকাই অগ্রিম দাবি করেন। ভিকটিম বাকি টাকা অপারেশনের পরে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে রাগন্বিত হন আবু ইউসুফ। এরপর রাতে  একটি রিপোর্ট করাতে বলেন আবু ইউসুফ। রিপোর্টটি আবু ইউসুফের পছন্দের ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে হবে দাবি করেন আবু ইউসুফ। এতে খরচ হবে ৬০০০ টাকা । স্বজনরা ৫০০০ হাজার টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানান েএবং এই রিপোর্ট আরো কম টাকায় করানো যায়,দাবি স্বজনদের। রোগির স্বজনরা সেই রিপোর্ট আদদ্বিন হাসপাতাল থেকে করান মাত্র ১২শ টাকায়। এতে ক্ষিপ্ত হন ডাঃ আবু ইউসুফ। এটাই কাল হলো রোগী ও তার স্বজনদের, ২৭ এপ্রিল সোমবার বিকেল ৫টায় মগবাজার তাকওয়া স্পেশালাইজ হাসপাতালে অপারেশন সম্পন্ন করেন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির। অপারেশনের পরেই তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান। এসময় হাসপাতালে দুজন নার্স ছাড়া অন্য কোন ডাক্তার ছিল না। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর রোগী ছটফট করতে থাকে। এ সময় আবু ইউসুফকে বারবার রোগির স্বজনরা ফোন দিলেও দেখি দেখতেছি বলে সময় ক্ষেপণ করেন আবু ইউসুফ । এ যেন রোগী মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে আবু ইউসুফ।

মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে রোগির স্বজনরা রোগির কাছে যেতে চাইলে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স এবং ওয়ার্ড বয় রোগীর কাছে যেতে বাধা দেয়। রোগির অবস্থা আরো অবনতি হলে কর্তব্যরত নার্স রোগীকে একটি ইঞ্জেকশন দেয়। ইনজেকশন দেয়ার ৫ মিনিট পরেই রোগী মৃত্যু হয়। সকাল ৯ ঘটিকের দিকে মিডিয়া কর্মীদের কাছে সংবাদ আসে তাকওয়া হাসপাতালে ডাক্তারদের অবহেলায় রোগী মৃত্যু হয়েছে। সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পায়নী। একজন ম্যানেজার এবং দুজন নার্স পাওয়া গেলেও তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নয় । তারা সকালে ডিউটিতে এসেছে বিধায় আগে যারা ডিউটিতে ছিল তারা বিষয়টি জানেন বলে দায় সারেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আবু ইউসুফ ফকির এর তথ্য জানার জন্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এটি তাদের কোন দায় নয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এদিকে আবু ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ডাক্তার অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া রয়েছে। তিনি বিভিন্ন হাসপাতালের কমিশনের বিনিময়ে রোগী পাঠান, টেস্ট বাণিজ্য সিন্ডিকেট এর সাথে জড়িত ।

এমন দায়িত্বহীন ডাক্তারদের কারণে যেন আর কোন প্রাণ অকালে ঝরে না যায় তার জন্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির এবং তাকওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানান রোগীর স্বজনরা ।

তিনি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন আওয়ামী লীগ পদ ব্যবহার করে কামিয়েছেন কারিকারি টাকা, যে লোভ তিনি এখনো ছাড়তে পারেনি। হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ সায়েমা আক্তার শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন একুশে পদক । তিনিও আওয়ামী লীগের একজন দোসর। এই আওয়ামী লীগের দোসররা মিলেই গড়ে তুলেছেন মগবাজারে তাকাওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল হসপিটাল নামে এক শ্যাসপাতাল। যারা টাকা ছাড়া অন্য কিছু চিনেন না, বোঝেন না। টাকা না পেলে তারা মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে এক সেকেন্ডও ভাবেন না।

গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে করেন প্রতারণা । এ সমস্ত স্বৈরাচারের দোসরদের নির্মূল করতে না পারলে বর্তমান সরকার প্রত্যেকটা কাজ ব্যর্থ হবে। তাই সরকারের কাছে এ সমস্ত লীগের দোসরদের গ্রেফতার করে যথাযোগ্য শাস্তির আওতায় আনা শুধু দরকারই নয় অতি প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে রাজধানী ঢাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব বিভিন্ন স্পেশালাইজ হাসপাতাল । অনেকেরই নেই কোন লিগ্যাল পেপার। বড় বড় ডাক্তারদের কমিশন দিয়ে রোগী সংগ্রহ করে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা । তাকওয়া স্পেশালিস্ট হাসপাতাল তার মধ্যে একটি। যাদের উদ্দেশ্য সেবা নয় বরং টাকা কামানো।

দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু ইউসুফ ফকির এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থেকে ঢাকায় নামে বেনামে কিনেছেন ফ্লাট এবং প্লট।

 

আওয়ামী পন্থী ১০ জন ডাক্তার মিলে গড়ে তুলেছেন এই কসাইখানা নামের তাকওয়া স্পেশালাইজ হাসপাতাল, যেখানে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে বাড়ি ফেরেন লাশ হয়ে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.