বাংলা সংবাদ মাধ্যম

চরমোনাই মুরিদের বিরুদ্ধে হিল্লা বিয়ের নামে ধর্ষণের অভিযোগ, সহযোগীতায় কাজী

৫১ বছর বয়সী মো.আওলাদ হোসেনের সঙ্গে ২৪ বছর আগে বিয়ে হয় ৪৩ বছর বয়সী মরিয়ম বিবির।হাসি খুসি আনন্দ বেদনা নিয়ে ভালোই চলছিল তাদের চার সন্তান সহ মোট ৬ সদস্যের সংসার। তাদের বড় সন্তানের বয়স ১৮ বছর।

 

আওলাদ হোসেনের অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর ও তাদের চার সন্তান সহ ঢাকার লালবাগের শেখ সাহেব বাজার এলাকায় বসবাস করেন । একই এলাকায় বসবাস করেন চরমোনাই মুরিদ মরিয়মের খালাতো ভাই কবির আহম্মেদ। ৫০ বছর বয়সী  কবির আহম্মেদেরও রয়েছে স্ত্রী সন্তান। মো. আওলাদ হোসেনের সংসারে মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ হয়। তারই সুযোগ নেন মরিয়মের খালাতো ভাই, ব্যবসায়ী এবং চরমোনাই মুরিদ কবির আহম্মেদ । সুযোগ বুঝে প্রায়ই মরিয়মের বাসায় যাতায়াত করেন কবির আহম্মেদ এবং একপর্যায়ে মরিয়মকে স্বামী-সংসার ছেড়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কবির আহম্মেদের তিনটি ফ্ল্যাটের মধ্যে একটি মরিয়মের নামে লিখে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

 

অন্যদিকে, মরিয়ম বিবি বলেন,

প্রথমে তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হননি। একদিন স্বামী দোকানে এবং সন্তানরা মাদ্রাসায় থাকার সুযোগে কবির আহম্মেদ বাসায় এসে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একইভাবে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটে। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন কবির আহম্মেদ ।

 

বিষয়টি স্বামী আওলাদ হোসেন টের পেয়ে স্ত্রীকে মৌখিক তালাক দেন বলে দাবি কবির আহমেদের। পরে মরিয়ম বিবিকে কবীর আহমেদ জানান তিনি এখন আওলাদ হোসেনের জন্য হারাম হয়ে গিয়েছেন। মরিয়ম এখন আওলাদ হোসেনের ঘরে থাকা নাজায়েজ হবে। সুতরাং এখন যদি মরিয়ম বিবি আওলাদ হোসেনের সংসার করতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই হিল্লা বিয়া করতে হবে।

 

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার লালবাগ শায়েস্তা খান রোডে অবস্থিত কাজী অফিসে এক লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের নিকাহ নিবন্ধন করা হয়। এখন প্রশ্ন ওঠে কাজী আগের স্বামী আওলাদ হোসেনের সাথে তালাকনামা না দেখে এবং তালাকের তিন মাস ১৩ দিন অপেক্ষা না করেই কিভাবে আরেকজনের সাথে বিয়ে দেন। এমন প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর মুখে। কাজী অফিসে আওলাদ হোসেনের সাথে তালাকের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। দেখাতে পারেননি কাজী অফিসের লাইসেন্স কিন্তু তাদের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে সরকার অনুমোদিত কাজী অফিস।

 

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাজী আগের বিয়ের তালাকের বৈধ কাগজপত্র যাচাই না করেই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিকাহ নিবন্ধন করেন। এমনকি প্রয়োজনীয় সাক্ষী ও আইনি প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই বিয়ে সম্পন্ন করেন।

 

এদিকে কাজী অফিসের বক্তব্য ভিন্ন।

তাদের দাবি, মরিয়ম বিবি আগেই মৌখিক তিন তালাক পেয়েছিলেন। একটি মাদ্রাসার ফতোয়ার ভিত্তিতে দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন করা হয়। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শুধু মৌখিক তালাক বা ফতোয়া যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তালাক কার্যকর হয়।

 

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৪ দিনের মাথায় প্রতিশ্রুতী অনুযায়ী ফ্ল্যাট না দেয়াকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে একই কাজী অফিসে ‘খোলা তালাক  এর মাধ্যমে বিচ্ছেদ নিবন্ধন করা হয়। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—যে কাজী দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন, তিনিই আবার এত অল্প সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সেই বিচ্ছেদও নিবন্ধন করলেন কীভাবে।

 

এদিকে আওলাদ হোসেন দেশবাসীর কাছে বিচার চেয়ে বলেন,  আমার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এই ভন্ড চরমোনাই মুরিদ কবির আহমেদ  আমার স্ত্রীকে লোভ দেখিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ের নামে ধর্ষণ করেন। আমার সাজানো সংসার ভেঙ্গে শেষ করে দিয়েছে। এই ঘটনায় আওলাদ হোসেন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্তে রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.